শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক ছিল ২ শতাংশ। মূলত পেট্রল বা জ্বালানির ওপর থেকে অস্থায়ী কর সরিয়ে নেয়ার কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির গতি কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে টানা দুই বছর জাপানে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে বেশি ছিল। খবর নিক্কেই এশিয়া।
জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পচনশীল খাদ্যপণ্য বাদে দেশটিতে ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির হার ডিসেম্বরের ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় গত বছর গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। জানুয়ারিতে এ মূল্যস্ফীতি কমে আসায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সুদের হার বাড়াবে কিনা তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে দশমিক ৭৫ শতাংশ করেছে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য বাদে মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
পচনশীল পণ্য বাদে জানুয়ারিতে জাপানের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের মাসের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম।
তবে গত বছরের তুলনায় চালের দাম ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ, চকোলেট ২৫ দশমিক ৮ ও রাইস বলের দাম ১১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত আকাশচুম্বী হয়েছে।
অন্যদিকে জ্বালানি খরচ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ। বিশেষ করে পেট্রলের দাম গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর সবচেয়ে বড় পতন। ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের বোঝা কমাতে গত ৩১ ডিসেম্বর জাপানের সাময়িক পেট্রল কর বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা কার্যত অবৈতনিক করায় পাবলিক হাই স্কুলের টিউশন ফি ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।